নাককাটা চালাক শিয়ালের গল্প

*** একদা এক জঙ্গলে শিয়াল ও বানরের খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিল একদিন বানর গাছে উঠে পাকা পাকা কুল খাচ্ছে আর গাছের নিচ দিয়ে তার বন্ধু শিয়াল যাচ্ছিল বানরকে কুল খেতে দেখে শিয়ালের কুল খাওয়ার ইচ্ছা জাগলো শেয়াল বানরের কাছে কুল খাওয়ার জন্য আবদার জানালো ।প্রথমে বানর শিয়ালকে একটা কুল দিল কুলটা পানির মধ্যে পড়লো শেয়াল পেলো না আরেকটা কুল দিল জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গেল আবারও শিয়াল একটা কুল চাইলো সেই কুলটি কাটার মধ্যে আটকে গেলো শিয়াল কাটার মধ্যে থেকে কুলটি আনতে গিয়ে শিয়ালের নাকে একটি কাটা আটকে গেল শিয়াল কাটা বের করার জন্য কামারের বাড়িতে গিয়ে বললো।
শিয়াল:-কামার ভাই ও কামার ভাই বাড়ি আছো নাকি ?
কামার:-হ্যাঁ বাড়িতেই আছি ও শিয়াল পন্ডিত তো কি মনে করে আমার বাড়িতে ?
শিয়াল:-আমার নাকে কাঁটা আটকে গেছে তোমার ওই নিরিন টা দিয়ে আমার নাকের কাঁটা বের করে দাও না ভাই।
কামার:-না ভাই শিয়াল পন্ডিত তোমার নাকের কাটা বের করতে গিয়ে যদি তোমার নাক কেটে যাই আমি এই কাজ করতে পারবো না।
শিয়াল:-মোরে গেলাম গো কাটার জালাই ও কামার ভাই নাগ যায় যাক আমার কাঁটা বের করে দাও না ভাই।
কামার:-তাহলে ঠিক আছে দাঁড়াও আমি দেখছি কি করা যায় ! যা শিয়ালের নাক তো কেটে গেল এখন কি করি।
শিয়াল:-ওমাগো মোরে গেলাম গো এই কামার বেটা আমাকে মেরে ফেলেছে গো কে কোথায় আছো গো আমাকে বাঁচাও গো।
কামার:-ও শিয়াল ভাই আমি তো তোমার নাক ফেরত দিতে পারবোনা নাকের বদলে তুমি যা চাও তোমাকে তাই দেবো বল তুমি কি চাও।
শিয়াল:-নাক দে নাই নাড়িন দে তুমি যে নাড়িন দিয়ে আমার নাক কেটেছো আমাকে সেই নাড়িনটা ই আমাকে দিতে হবে নাক দে নাই নাড়িন দে।
কামার:-এই নাও নাড়িন তুমি এখন জাও ভাই।
*** নাড়িনটি নিয়ে শিয়াল আবার চলতে আরম্ভ করলো যেতে যেতে শিয়ালের চোখে পড়লো আজব কান্ড এক বৃদ্ধ কুমার মাটির পাত্র বানানোর জন্য হাত দিয়ে মাটি সংগ্র করছে তারপর।………
শিয়াল:- কুমার ভাই ও কুমার ভাই তুমি এত কষ্ট কোরে হাত দিয়ে মাটি সংগ্র না কোরে আমার এই নাড়িনটি নিতে পারো তাহলে তুমি খুব সহজেই মাটি সংগ্রহ করতে পারবে।
কুমার:- না ভাই শিয়াল পন্ডিত আমার নাড়িন নাই মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে তোমার নাড়িন যদি ভেঙে যায় আমি কিভাবে তোমার নাড়িন ফেরত দেবো আমার নাড়িন লাগবে না ভাই ।
শিয়াল:- না না কুমার ভাই সেরকম কোনো কথা না আমি শিয়াল পন্ডিত এই নাড়িনটা দিয়ে আমার কোন কাজেই আসবে না আর আমিতো শিয়াল পন্ডিত খাবারের সন্ধানে সব সময় বন জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই নাও এই নাড়িনটি আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম।

কুমার:- ঠিক আছে তাহলে দাও ।
*** শিয়ালের নাড়িনটি নিয়ে কুমার মোনের আনন্দে মাটি সংগ্রহ করতে আরম্ভ করলো তার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ শিয়ালের নাড়িনটি ভেঙে গেল শিয়ালের একি কান্নাকাটি আর বলতে লাগলো আমার নাড়িনদে নাই তোর হাড়িদে গরিব কুমারের আর কি করার ছিল অসহায় হয়ে তার একটি হারি শিয়ালকে দিয়ে দিল সেটা নিয়ে শিয়াল পন্ডিত আবার চলল অন্য কোথাও যেতে যেতে শিয়ালের চোখে পড়ল এক দুঃখজনক ঘটনা একটি কৃষক বউ হাড়ির অভাবে গাভীর দুধ আহরণ করছে গাছের পাতার সাহায্যে এতে অনেক দুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।তারপর শিয়াল পন্ডিত কৃষক বউ এর নিকট গিয়ে বললো ?
শিয়াল:- কৃষক বউ ও কৃষক বউ তুমি এত কষ্ট করে দুধ আহরণ না করে আমার এই হাঁড়িটা নিলেও তো তোমার কাজে আসবে ।
কৃষক বউ:- না ভাই শিয়াল পন্ডিত আমি গরিব মানুষ আমার হাঁড়ি নাই তোমার হাঁড়িটা যদি ভেঙে যায় আমি কিভাবে তোমার হারি ফেরত দেব।
শিয়াল:- না না কৃষক বউ সেই রকম কোন কিছুই না তাছাড়া এই হাঁড়িটা আমার কোন কাজে লাগে না আমি শিয়াল পন্ডিত হাঁড়ি দিয়ে আমি কি করব নাও এই হাঁড়িটা আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম ।
*** শিয়ালের হাঁড়িটি নিয়ে কৃষক বউ মনের আনন্দে দুধ সংগ্রহ করতে আরম্ভ করলো হঠাৎ গভীর এক লাথিতে শিয়ালের হাঁড়িটি ভেঙ্গে গেলো শিয়াল আবার একই রকম কান্নাকাটি কোরে লোকজন ডাকতে আরম্ভ করলো আর বলতে থাকলো আমার হাঁড়িদে নাই তোর গাভী দে কৃষক বউয়ের আর কি করার ছিল চক্ষু লজ্জার ভয়ে তার গাভীটি শিয়ালকে দিতে বাধ্য হল।অর শিয়াল গাভিটি নিয়ে চললো আবার অন্য কোথাও যেতে যেতে শিয়ালের চোখে পড়লো এক দুঃখ জনক ঘটনা এক কৃষক গরুর অভাবে বউ দিয়ে জমি চাষ করছে তারপর। ……..
শিয়াল:-কৃষক ভাই ও কৃষক ভাই তুমি এত কষ্ট করে জমি চাষ না করে আমার এই গরুটি নিলেও তোমার কাজে লাগবে।

কৃষক বউ:- হ্যা গো তাই ই করো তাহলে তুমি অনেক জমি চাষ করতে পারবে আর আমারও কষ্ট অনেক টাই কমে যাবে।
কৃষক:- না না ওর গরু লাগবে না ওর নাম শেয়াল পন্ডিত ও কখন কি করে বসবে তখন আর বিপদের শেষ থাকবে না তোমার গরু লাগবে না ভাই তুমি এখন যেতে পারো।
শিয়াল:- না না কৃষক ভাই সেই রকম কোনো ব্যাপার না আর আমিতো শিয়াল পন্ডিত খাবারের সন্ধানে সব সময় বন জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই গরু দিয়া আমি কি করবো নাও এই গরুটা আমি তোমাদের দিয়ে দিলাম।
*** যেই কথা সেই কাজ শিয়ালের গরুটি নিয়ে কৃষক মনের আনন্দে জমি চাষ করতে আরম্ভ করলো হঠাৎ শিয়ালের গরুটি মারা গেল শিয়ালের একই কান্নাকাটি আর বলতে থাকলো আমার গরুদে নাই তোর বউদে গরিব কৃষকের আর কি করার ছিল বাধ্য হয়ে শিয়ালকে তার বউ দিয়ে দিল আর শিয়াল পন্ডিত কৃষকের বউকে নিয়ে চললো আবার অন্য কোথাও যেতে যেতে শিয়ালের চোখে পরলো এক আশ্চর্যজনক ঘটনা একজন মহিলা মানুষের অভাবে বানর কে দিয়ে চিড়া বানাচ্ছে শিয়াল মহিলাটির কাছে গিয়ে বললো। ……
শিয়াল:- চাচি মা ও চাচি মা তোমার কি কেউ নেই তুমি এই বানর কে দিয়ে চিড়া বানাচ্ছো তারচেয়ে আমারে বউটা নাও তোমার অনেক কাজে আসবে।
*** যেই কথা সেই কাজ মহিলাটি শিয়ালের বউকে নিয়ে চিড়া বানানো আরম্ভ করলো হঠাৎ ঢেঁকির এক আঘাতে শিয়ালের বউটি মারা গেল শেয়ালের আবার সেই একই কান্নাকাটি আমার বউদে নাই তোর চিড়াদে।মহিলাটির আর কি করার ছিল বাধ্য হয়ে শিয়ালকে তার সবটুকু চিড়া দিয়ে দিলো আর সেই চিড়াগুলো নিয়ে শিয়াল চলল আবার অজানা পথে।যেতে যেতে শিয়ালের চোখে পড়লো এক দুঃখ জনক ঘটনা একদল ঢোল বাদক মানুষ তারা এক জঙ্গলের ভিতর খুদার জ্বালায় ছটফট কোরছে শিয়াল তাদের কাছে গিয়ে বললো। ……….
শিয়াল:- ঢুলি ভাই তোমাদের দুঃখের কথা সবই তো শুনলাম আমার কাছে তোমাদের সাহায্য করার মত কিছুই নেই আমার কাছে শুধু এই শুকনো চিড়া গুলো আছে যদি তোমরা আমাকে আপন মনে করো তাহলে আমার চিড়া গুলো খেয়ে তোমরা একটু হলেও ক্ষুধা নিবারণ করতে পারো আর আমি তো শিয়াল পন্ডিত এই চিড়া গুলো আমি খেতেও পারব না নাও।
*** মুহূর্তের মধ্যেই ঢুলিরা শিয়ালের চিড়াগুলো খেয়ে শেষ করে ফেললো শিয়াল আবার সেই একই কান্নাকাটি করতে আরম্ভ করল আর বলতে লাগলো আমার চিড়াদে নাই তোদের ঢোলদে।বেচারা ঢুলিরা ওদের আর কি বা করার ছিল বাধ্য হয়ে তারা শিয়ালকে তাদের ঢোলটি দিয়ে দিল আর শিয়াল ঢোলটি নিয়ে মনের আনন্দে গান গাইতে গাইতে চললো অজানা পথে। ….
শিয়ালের গান:-
নাকের বদলে নাড়িন পেলাম টাক ডুমাডুম ডুম !
নাড়িন দিয়ে হাড়ি পেলাম টাক ডুমাডুম ডুম !
হাড়ি দিয়ে গরু পেলাম টাক ডুমাডুম ডুম !
গরু দিয়ে বউ পেলাম টাক ডুমাডুম !
বউ দিয়ে চিড়া পেলাম টাক ডুমাডুম ডুম!
চিড়া দিয়ে ঢোল পেলাম টাক ডুমাডুম ডুম আরে টাক ডুমাডুম ডুম ডুম। …..

Leave a Reply

Your email address will not be published.